ছাত্রলীগের অর্জনগুলো সূর্যের মত দীপ্তিমান

নূরুল আলম আবিরঃ ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী প্রিয় রূপসী বাংলার অপ্রতিদ্বন্দ্বী মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ছাত্রলীগের পথচলা। একঝাঁক পৃথিবী জয় করা তুমুল দুঃসাহসী তরুণের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ জিতেছে মানবতার হৃদয় মাঠ। এশিয়ার সর্ববৃহত এই ছাত্রসংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর পরই আদায় করেছে মাতৃভাষা বাংলার দাবী।

ছাত্রলীগের তাজা রক্তে স্নান করে, অসংখ্য প্রাণের অকালে ঝরে যাওয়ার বিপ্লবী প্রার্থনায় আমরা পাই প্রাণের বাংলা ভাষার রাষ্ট্র মর্যাদা। মায়ের ভাষা বাংলার দাবী আদায়ে ছাত্রলীগের পৃথিবী তোলপাড় করা আন্দোলন সংগ্রামে, পাকিস্তানের শৈর শাসক আমাদের ভাষার দাবী মানতে বাধ্য হয়। পৃথিবীর সবুজ ক্যানভাস রক্তে ভাসিয়ে আমরা জিতি ভাষার অধিকার। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। যার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন বেগমান হয়। তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দুঃসাহসী আন্দোলন, প্রিয় বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ পূর্ব বাংলার মানুষের ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভূত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। এর ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভীত হয় ইস্পাত কঠিন মজবুত।

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জয়যুক্ত করতে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল অপরিমেয় নিঃসীম। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বুক চিতিয়ে লড়াই করে। যুদ্ধের খোলা মাঠে হাজার হাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মী শহীদ হয়। বুকের তাজা রক্তে দেশের মানচিত্র লাল করে নিয়ে আসে আমাদের পরম আকাঙ্খিত মহান স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের আহ্বানে ছাত্রলীগের সূর্যসারথীরা সারা বাংলাদেশে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।

নূরে আলম সিদ্দিকী, তোফায়েল আহমেদ-সহ তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতারা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। ছাত্রলীগের নেতৃত্বে প্রতিটি জেলায়, উপজেলায়, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে রাজপথ কাঁপানো আন্দোলন করে ছাত্রলীগই নিয়ে আসে গণতন্ত্রের ফাল্গুধারা।

১/১১’র সময় গণতন্ত্রের মানসকন্যা জাতির জনকের হীরক তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গণআন্দোলন গড়ে তুলে। যার ধারবাহিকতায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব রাজবন্দি মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালে একটি নির্ভরযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারের অগ্রযাত্রা আবারও শুরু হয়। সেই থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায়, বাংলাদেশের গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল জনসেবকের।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ করোনার মহামারীর সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সর্বাবস্থায় গণমানুষের পাশে রয়েছে। দূর্যোগ, দূর্ভোগ আর শত ব্যথাবেদনা বুকে চেপে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে গেছে মানুষের জন্য। বঙ্গবন্ধুর মানবসেবার আদর্শ বুকে লালন করে তার চর্চা করছে জীবন দিয়ে।
ছাত্রলীগের অর্জনগুলো সূর্যের মত দীপ্তিমান। ইতিহাস-ইতিহ্যে, আন্দোলন-সংগ্রামে চিরস্মরণীয় প্রিয় ছাত্রলীগ— এ রূপসী বাংলার অপ্রতিদ্বন্দ্বী জীবনঘনিষ্ঠ এক মানবকল্যাণী ছাত্র সংগঠন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অংশে সংগঠিত ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগকে দায়ী করা চরম দূর্ভাগ্য ও দুঃখজনক ঘটনা।

ব্যাক্তির পশুসুলভ চরম জিগাংসার ফল ধর্ষণ কোনো সংগঠনের দীক্ষা হতে পারে না। ছাত্রলীগের ইতিহাস আদর্শের সাথে যা বড্ড বেমানান। সত্যিকারের ছাত্রলীগের আদর্শের কোনো সেনাপতি নারীর ইজ্জত লুটতে পারে না। বরং তারা বঙ্গ ললনাদের সর্বোচ্চ সম্মান ফিরিয়ে দিতে সদা প্রস্তুত এক জাগ্রত মানবসূর্য। বোনদের ইজ্জত বাঁচাতে, তাদের বিবস্ত্র হওয়া রুখে দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে দিয়েছে তুমুল দুঃসাহসী এক অতি মানবিক দীক্ষা।

এ দীক্ষায় দীক্ষিত ছাত্রলীগের কাজ নারীর ইজ্জত বাঁচানো, বাংলা মায়ের অধিকার আদায়। লক্ষ লক্ষ ছাত্রলীগের মহাবীরের ভীড়ে ওরা দুই একজন খড়কুটো ছাত্রলীগের কেউ নয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর মহান মানবসেবার আদর্শ হৃদয়ে লালন করে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার পবিত্র আদেশ ও নির্দেশে সদা তৎপর ওরা বীর সেনানী। 

লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *