ধর্ষক ধরতে সেনা অভিযান পরিচালিত হোক

নূরুল আলম আবিরঃ কাজলা দিদিদের বিবস্ত্র করে অতীব ভয়ানক যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে সারাদেশ উত্তাল।সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর হাত থেকে স্ত্রীকে কেড়ে নিয়ে গণধর্ষণের পরই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে যৌন নির্যাতন করার ভিডিও  অস্তিত্ব সংকটে ফেলে নারীদের। দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন দেউল্লার আদেশ ও নির্দেশে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে বলে সমূহ প্রমাণ রয়েছে।

এঘটনায়ও ধর্ষিত গৃহবধূর স্বামীকে আরেক কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষকরা তাণ্ডবলীলা চালায়। ভয়ানক ধর্ষক, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার হতভাগ্য ওই নারীকে এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে ধর্ষণ করে। কখনো জোর করে বাহিনীর ছেলেদের দিয়ে নৌকায় নিয়ে, কখনো খোলা মাঠের সবুজ পাটিতে, কখনো আবার ঘন অরণ্যের নিশ্চুপ নিরালায় মেয়েটির দেহযন্ত্রকে খুবলে খুবলে খায়। দেলোয়ার ও তার বাহিনীর ছেলেরা এরকমভাবে আরো বহু নারীকে ধর্ষণ করেছে, নির্যাতন করেছে।

একের পর এক অবলা নারী দেলোয়ার গংদের জিগাংসার বলি হয়েছে। মনে প্রাণে পূতপবিত্র থাকার প্রত্যয় বুকে নেয়া এমন অজস্র নারী দেলোয়ারদের নেশার বলি হয়েছে। দেলোয়ার, কালাম, রহিমরা বঙ্গ মায়ের কলিজা ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে, নারীর সম্ভ্রম ও তার প্রিয় স্বপ্নগুলো পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে।

ধর্ষক দেলোয়ার সিএনজি চালক থেকে কুখ্যাত ধর্ষক ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠার পেছনের কারণ অপরাজনীতির ছত্রছায়া। বেগমগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিবিদদের চোখের সামনেই এমন অসংখ্য জঘন্য ঘটনার খলনায়ক দেলোয়ার ও তার সহযোগীরা। দেখেও না দেখার ভান করে তারা দেলোয়ার গংদের এমন ভয়ানক অপরাধ সংঘটিত করার অভয় দিয়েছে। 

এমন অতি জঘন্য ও নৃশংস ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নোয়াখালীতে আরেক গৃহবধূর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশের মাথা ও কোমরের অংশ উদ্ধার করা গেলেও বুক ও পায়ের অংশ উদ্ধার করা যায়নি। লাশের বাকি খণ্ডাংশ উদ্ধারে চেষ্টা করছে পুলিশ। গতকাল একই জেলায় ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত আরেক ধর্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত ধর্ষক কয়েক মাস ধরে এক বিধবা নারীকে দলবল নিয়ে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী ওই নারী অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ধর্ষিত বিধবার মামলার প্রেক্ষিতে এক আসামি গ্রেপ্তার হয়। কিছুদিন আগে গোপালগঞ্জে নবম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে জোর করে ধর্ষণ করে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

কৌশলে সে ছাত্র বন্ধুকে দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। ভিডিও ধারণ করে মেয়েটিকে যখনই ডাকবে তখনই সাড়া দিতে হবে বলে হুমকি দিয়ে জিম্মি করে ওই পাষণ্ডের দল। এ ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

এদিকে ধর্ষণ মামলার আসামি ঢাবির এর ভিপি নুরুল হক নুর, ছাত্র অধিকার সংগঠনের হাসান আল মামুন ও সোহাগ এখনো গ্রেফতার হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি স্টাডিজ-এর ধর্ষিত সেই ছাত্রী আসামীদের গ্রেপ্তার দাবীতে এখন অনশনে বসেছে। ভিপি ও ছাত্র সংগঠনের নেতা বলে তারা কি গ্রেফতার হবে না?

এসকল একচোখা নীতি বর্জন করে সকল ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিতে হবে। নুরদের প্রশাসন গ্রেফতার করছে না কেন? ওরা এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে এমন ন্যাক্কারজনক ধর্ষণকাণ্ড কিভাবে করল? ওদেরকে দেশের অধিনস্ত ছাত্ররা কিভাবে ফলো করবে। নেতা হয়ে সহপাঠী মেয়েকে ধর্ষণ করে প্রমাণ করল ওরা অযোগ্য।

এখন তাদের উচিত থানায় আত্মসমর্পণ করে তাদের নিকৃষ্ট কুকাজের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের এসব মহড়াদাতাদের কোনো ছাড় নয়। জাতি এদের থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারে না। সে আবার ঘোষণা দেয় রাজনৈতিক দল গঠন করবে, তিনশ আসনে নির্বাচন করবে। এসব লম্পটরা ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে ১৬ ভোটও পাওয়ার যোগ্য নয়।

দেশের পূতপবিত্র সবুজ ক্যানভাস আমরা আর রক্তাক্ত হতে দিতে পারি না। আমরা ধর্ষকদের হাত থেকে মা, বোন ও স্ত্রী-কন্যাদের বাঁচাতে চাই। নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ধর্ষণ থাকতে পারে না। সরকার ইতিমধ্যে ধর্ষক রুখতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করার ঘোষণা দিয়েছে। ধর্ষক যে দলেরই হোক না কেন— সরকারের অবস্থান থেকে ধর্ষকদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে অঙ্গীকার ব্যাক্ত করা হয়েছে।

দেশের প্রধান বিচারপতি ধর্ষণের বিচার চেয়েছেন। ধর্ষণের বিচার আমরা সবাই চাই। দেশের ১৬ কোটি মানুষের উচিত ধর্ষণ প্রতিরোধে প্রতিবাদ করা। ধর্ষককে ভয় নয়। ধর্ষণ প্রতিরোধে দুঃসাহসী হোন। নিজ মা-বোনের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হোন। সারাদেশে ধর্ষণের বিচার দাবীতে আন্দোলন-সংগ্রাম, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ সংঘটিত হচ্ছে। ধর্ষকদের বিচার দাবীর সাথে একদল ক্ষমতালোভী সরকার পতনের কথা বলে ধর্ষকদের বাঁচাতে চাচ্ছে।

ধর্ষণের বিচার চাওয়ার দাবীকে তারা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। রক্তাক্ত নারীর চূর্ণবিচূর্ণ সম্ভ্রম পদদলিত করে ওরা ক্ষমতা চায়। ওরা যখন ক্ষমতায় ছিল তখনও সমানতালে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে। ধর্ষণের বিচার কোনো ক্ষমতালোভীর দাবী নয়। এ দাবী সারাদেশের আমজনতার।

বঙ্গললনাদের অধিকার রক্ষায় শেখ হাসিনা ছাড়া আর কে আছে? আমরা শেখ হাসিনা সরকারের কাছে ধর্ষণের বিচার দাবী করছি। সারাদেশে ধর্ষক ধরতে সেনা অভিযান পরিচালিত হোক। মাদকের মত দমন করা হোক ধর্ষণ সন্ত্রাসকে। 
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *