নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে টাকার বিনিময়ে ২মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিলো পুলিশ

ফয়সাল আহমেদ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ১ কেজি গাঁজাসহ রফিকুল ইসলাম ও শাহজাহান নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।চিহ্নিত ওই দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।রূপগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দেয়ার এ অভিযোগ উঠে।গত মঙ্গলবার (২২ জুন) রাতে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম কায়েতপাড়া ইউনিয়নের খামারপাড়া এলাকার মৃত বারেক মিয়ার ছেলে ও তালাশকুট এলাকার আয়েত আলীর ছেলে শাহজাহান।স্থানীয় এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে জানান,অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ও শাহজাহান কায়েতপাড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া,তালাশকুট, খামারপাড়া,কামশাইর,চাঁনখালী,ছুটেরটেকসহ আশপাশের এলাকা গুলোতে গাঁজা,ইয়াবা,ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করে আসছে।শুধু তাই নয়,তারা এসব এলাকায় জুয়ার আসরও বসায়।

এলাকাবাসী তাদের জন্য অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।এলাকার কিশোর-যুবকরা ধ্বংশের পথে চলে যাচ্ছে।পুলিশের এমন আশ্রয় প্রশ্রয়ে এসব অপকর্ম চালায় বলে অনেক নতুন নতুন মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার আসর তৈরি হচ্ছে নিত্যদিন এসব এলাকাগুলোতে।এলাকায় পুলিশ আসলে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার আসরের আয়োজকরাই তাদের নিয়ে চষে বেড়ায়।বাজার করে দেন।পুলিশের সাথে রয়েছে তাদের দহরম মহরম সম্পর্ক।অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশের মোটর সাইকেলে চড়ে ঘুরতেও দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এসব মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার আসরের আয়োজকদের কাছে সাধারণ মানুষ অসহায়।রূপগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে ৪ থেকে ৫ জন পুলিশ সদস্য গত মঙ্গলবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উত্তরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এক কেজী গাঁজাসহ রফিকুল ইসলাম ও শাহজাহানকে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারের পর এলাকাবাসী পুলিশ প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।কিন্তু রাত ১২টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়।

শুধু তাই নয়,জব্দকৃত এক কেজী গাঁজা ফেরত দিয়ে দেয়।এতে করে এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।এলাকাবাসী অভিযোগ করে আরো জানান, এলাকাবাসীর সামনেই এক কেজী গাঁজা জব্দসহ ওই দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে এএসআই সোহরাব হোসেন।এ ব্যপারে অভিযুক্ত রূপগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহরাব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যপারে কোন মন্তব্যে করতে রাজি হননি।এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল ফয়সাল মোহাম্মদ সায়েদ বলেন,এ ব্যপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *