৩০ বছরে নির্মিত হয়নি রাঙামাটি-রাজস্থলী-বান্দরবান সড়কের লিচুবাগানের ফেরি ঘাটের সেতু

মিন্টু কান্তি নাথ: ৩০ বছর ধরে কর্ণফুলী নদীতে একটি সেতুর অভাবে রাঙামাটি-রাজস্থলী-বান্দরবান সড়কের লিচুবাগান ফেরি ঘাট এলাকায় যানবাহন ও জন চলাচলে ভোগান্তি লেগেই আছে।
ফলে রাঙামাটি, বান্দরবান ও রাজস্থলী থেকে বিভিন্ন যানবাহন এসে কর্ণফুলী নদীর লিচুবাগান এবং রাইখালীর অংশে থমকে যেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সড়কের এই অংশে কর্ণফুলী নদীতে সেতু না থাকায় পারাপারে অতিরিক্ত সময় লেগে যায়।
কাপ্তাইয়ের রাইখালীতে অবস্থিত রাঙামাটি জেলার একমাত্র পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলতাফ হোসেন বলেন, গবেষণা কেন্দ্রের প্রয়োজনে প্রতিদিন এই ফেরি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। অনেক কর্মকর্তা এই গবেষনা কেন্দ্রে আসেন কিন্তু ফেরির কারণে সহজে যাতায়াত করা সম্ভব হয়না। রাইখালী-লিচুবাগান ফেরি ঘাটে দ্রুততম সময়ে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অথবা সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানাই।
চন্দ্রঘোনা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, অনেক সময় ফেরির মধ্যে বা ফেরিতে উঠার সময় বিভিন্ন যানবাহন অচল হয়ে যায় এবং এসব যানবাহনে অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র থাকে। রাত হলেও গাড়ি সচল করতে না পারায় সেখানে পুলিশ পাহারা দিতে হয়। তাছাড়া ফেরি পারাপার নিয়ে অনেক সময় চালক এবং যাত্রীদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হলে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। যার ফলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। এ নিয়ে থানা পুলিশের মাঝে একটা মানসিক চাপ বিরাজ করে থাকে। সেতু নির্মিত হলে এ ধরনের ঝামেলা পোহাতে হবে না পুলিশকে।
এদিকে, লিচুবাগান-রাইখালীর ফেরি ঘাটের এ অংশে সেতু না থাকায় এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি পণ্য এবং মৌসুমী ফল বিশেষ করে আম, জাম, কলা, কাঁঠাল, আনারসসহ অন্যান্য ফল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ফলে উৎপাদিত ফল যথাসময়ে বাজারজাত করতে না পারায় কৃষকসহ সংশ্লিষ্টরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
এ ফেরির উপর দিয়ে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে থাকে। তারাও ফেরির কাছে এসে পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে থাকেন। বিশেষ করে ফেরি চলাচলকালীন ফেরিতে করে অনেক সাধারণ লোকজন যাতায়াত করে থাকে।
কিন্তু নদীতে জোয়ারের সময় ফেরির পাটাতনে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। তখন হেটে চলা লোকজনকে কাপড় ভিজিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ সমস্যা নিত্য দিনের। আবার অতিবৃষ্টিতে ফেরির পাটাতন নদীতে ডুবে গেলে তখন ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পায়।
তাই এলাকাবাসীসহ তিন পার্বত্য জেলার মানুষের জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং এই সড়কের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত লিচুবাগান-রাইখালীর কর্ণফুলী নদীর এই অংশে সেতু নির্মাণে জোর দাবি জানাচ্ছেন সবাই।
অনেক সময় পারাপারে প্রায় আধা ঘন্টার অধিক সময় লেগে যায়। যদি ফেরি অপর প্রান্তে থাকে তাহলে এক ঘন্টাও সময় লেগে যায়। সেতু থাকলে এই অংশ পার হতে সর্বোচ্ছ দুই-এক মিনিট লাগতো। কিন্তু সেতু না থাকায় এই সড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
গত ৩০ বছর যাবৎ সড়কের এই অংশে সেতু নির্মাণির দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসে সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু সেতু নির্মিত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাপ্তাই ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত কর্ণফুলী নদীর উপর এই ফেরি ঘাট যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া কক্সবাজার ও টেকনাফের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও কর্ণফুলী নদীর এই স্থানটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিদিন এই ফেরির উপর দিয়ে পাঁচ-ছয় শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে। তাছাড়া অংসখ্য মানুষ এই এলাকা দিয়ে নৌকা ও সাম্পানযোগে যাতায়াত করছেন। সেতু না থাকায় সকলকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *