রাজবাড়ীর পাংশায় জ্বীনের ভয় দেখিয়ে ২স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

মোঃ সিরাজুল ইসলাম : আমার কাছে জ্বীন আসে,জ্বীনের দ্বারা ভাগ্য পরিবর্তন করে দিব আর গরীব থাকতে হবে না-এভাবেই কথাগুলো বলে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন রাজবাড়ীর পাংশার সবুর প্রামাণিক (৫৫) নামক একজন ভন্ড সাধু।যার বিরুদ্ধে নবম ও দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া দুই জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।সবুর রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের প্রাণপুর গ্রামের মৃত ভোলা প্রামাণিকের ছেলে।

গত মঙ্গলবার রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্যাইবুনাল আদালতে নবম শ্রেণীর ছাত্রীর বাবা এবং দশম শ্রেণীর ছাত্রীর বোন বাদী হয়ে নারী শিশু ও নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় পৃথক ভাবে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।আদালত রাজবাড়ীর পাংশা মডেল থানার ওসিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

একটি মামলায় ঘটনার স্বীকার নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া তরুণী জানায়,কথিত সাধু সবুর আমাকেসহ আমাদের পরিবারের সদস্যদের জ্বীন ও পরীর ভয় দেখায়।এর অংশ হিসেবে গত মে মাসের শেষ দিকে একদিন রাতে সবুর তার বাবাকে বলেন,এক গ্লাস পানি নিয়ে আমাকে বাড়ীর পাশে থাকা একটি তাল গাছের নিচে যেতে।

আমি সেখানে গেলে নানা ধরনের কথা বলে এবং সে জোর করে আমার হাত বেঁধে ফেলে এবং ধর্ষণ করে আমি চিৎকার দিতে গেলে সে আমাকে ভয় দেখায়। জ্বীন না কি আমার বাবাকে মেরে ফেলবে এবং এ কথা কাউকে বললে আমার পরিবার ধ্বং স হয়ে যাবে।তাকে টানা ৪১ দিন জ্বীনের খায়েশ মেটাতে হবে।আর এ খায়েশ মেটালেই আমাদের ভাগ্যর পরিবর্তন হয়ে যাবে।এ সব কথা বলে তাকে দুইবার ধর্ষণ করে।

অপরদিকে দশম শ্রেণীর ছাত্রী জানায়,আমি বেশ কিছু দিন ধরে আমার বোনের বাড়ীতে অবস্থান করছি।ওই বাড়ীতে লম্পট সবুর আসে।সে তার বোন ও দুলাভাইকে বড় লোক করে দেবার প্রলোভন দেখায়।একই সাথে তাকে (ওই ছাত্রীকে) সবুর তার নিজ বাড়ীতে কথিত জ্বীনের আসন বসানোর কথা বলে।আর এই আসন না বসালে বড় রকমের ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখায়।

গত মে মাসের শেষ দিকে একদিন রাতে সবুরের বাড়ীর কথিত জ্বীনের আসনে সে যায়।সবুর প্রথমে আমাকে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে বলে।আমি নামাজ শেষ করতেই সে ঘরের আলো নিভিয়ে দেয়।এরপর ভন্ড সাধু সবুর একটি কালো রংয়ের জুব্বা পড়ে আমার সামনে আসে এবং আমার গায়ে হাত দেয় এ সময় আমি তাকে নিষেধ করি।

সে তখন আমাকে বলে,আমি এখন জ্বীন সবুরের রুপে তোমার কাছে আসছি,আমার খায়েশ মিটিয়ে দাও,তোমার মনের সকল আসা পূরন হবে।সে তাতে রাজি না হলে সবুর জোর করে তাকে ওই যায় নামাজের পাটির উপর ফেলে ধর্ষণ করে।এরপর একই ধরণের ভয় দেখিয়ে আমাকে চার বার ধর্ষণ করে।তার অত্যাচরের মাত্রা ছড়িয়ে যাওয়ায় আমি বিষয়টি বোনকে জানাই।

পাংশা থানার বিদায়ী ওসি মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন,ওই সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন।যদিও ঘটনার পর থেকেই ভন্ড সাধু সবুর পলাতক বয়েছে।তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *