নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমি দখল,হামলা ও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা

শাহজাহান আলী মনন : নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রতারণার মাধ্যমে জাল (নকল) স্বাক্ষর দিয়ে ভুয়া দলিল তৈরী,জমি দখল এবং হামলা করে আহত ও শ্লীলতাহানীর অপচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি অসহায় পরিবার।৬ জুন রোববার রাতে নিজ বাড়িতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রতারক চক্রটির হাত থেকে রক্ষার জন্য সংবাদকর্মী,প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল বড়পাড়ার মৃত ফজলুল হকের বিধবা স্ত্রী বৃদ্ধা জোসনা বেগম সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন ছোট ছেলে জুলফিকার ও একমাত্র দেবর আব্দুর রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।জুলফিকার অভিযোগ করে বলেন, তার বড় ভাই খলিলুর রহমানের সহকর্মী কামারপুকুর বাউলপাড়ার (মাজার সংলগ্ন) মুহিবুল্লাহ পিপু (৩২) একজন অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির মানুষ।

নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি,জমিদখলসহ প্রতারণামূলক নানা অপকর্মে জড়িত।প্রতিবন্ধী ও অসহায় দরিদ্র লোকজনের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের দূর্বলতাকে পূঁজি করে চিকিৎসা সহায়তা পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণা করেছে।পত্রিকা,অনলাইন মাধ্যমে ওইসব ব্যক্তির ছবি ও নাম ঠিকানা সম্বলিত সাহায্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজ মোবাইল ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে সহযোগীতাকারী সহৃদয় দানশীল ব্যক্তিদের প্রেরিত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এমনকি তারা সুদূর কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরের দূর্গাপুর মন্ডলেরহাট এলাকা থেকে এসে কামারপুকুর কলেজের পূর্বদিকে গাউসীয়া রাহমানিয়া মাইজভাণ্ডারীয়া দরবার শরীফ মাজারের নামে দানকৃত জমি জবরদখল করে গড়ে তোলা বাড়িতে সপরিবার অবস্থান করাসহ মাজারের নামে সদকা বা দান খয়রাতকৃত অর্থও আত্মসাৎ করে চলেছে দীর্ঘদিন থেকে।

এছাড়া মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় করা তথা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করার কারনে জনতার হাতে ধরা খেয়ে মুচলেকা দিয়েও থেমে নেই তার এ অপকর্ম।এরই ধারাবাহিকতায় এবার সে ভুয়া ক্রয় দলিলমূলে জবর দখল করেছে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি।আমাদের একমাত্র বোন ফাতেমার বিয়ের জন্য অর্থের প্রয়োজন হওয়ার সুযোগে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বড় ভাই খলিলুর রহমানের মাধ্যমে জমির দলিল নিয়ে তা দিয়ে ওই জাল দলিল তৈরী করেছে মুহিবুল্লাহ ও তার বাবা হাবিবুর রহমান দর্জি (হাতুরে কবিরাজ)।

এক্ষেত্রে তারা আমার বাবা ও চাচার স্বাক্ষর ও টিপসই নকল করেছে।জুলফিকার বলেন,আমি এবং আমার আরও দুই ভাই আনোয়ারুল ও আব্দুল জলিল সপরিবারে কর্মস্থল ঢাকায় থাকি।বাড়িতে শুধু আমার মা,চাচা আব্দুর রহমান এবং বড় ভাই খলিলুর রহমান স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকেন।এই সুযোগে বড় ভাইয়ের প্রচ্ছন্ন মদদে আমাদের বসত বাড়ির পাশেই জবরদখল করা ওই ১০ শতক জমির অর্ধেক অংশে গত এপ্রিল মাসে করোনা মহামারীর ভয়াবহতার মাঝেই তারা হঠাৎ করে এসে বাড়ি নির্মাণ করার চেষ্টা করে।

এসময় বাধা দিলে হাবিবুর ও মুহিবুল্লাহসহ হাবিবুরের ভায়রা বাবুল,মেয়ে পপি আমার বৃদ্ধা মা ও বৃদ্ধ চাচাকে নোংরা গালিগালাজ করাসহ বেধড়ক মারধর করে এবং মায়ের শাড়ী ব্লাউজ ছিড়ে ফেলে শ্লীলতাহানির অপচেষ্টা চালায়।এলাকার লোকজন প্রতিবাদে এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।পরে বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে মিমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়।কিন্তু প্রতিপক্ষ শালিস না মেনে উল্টো নানা হম্বিতম্বি করে।

প্রশাসন তার পকেটে,তাই আমাদের শায়েস্তা করে মজা দেখাবে বলে হুমকি দেয়ায় পরবর্তীতে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।যা এখনও অমিমাংসীত।তিনি আরও বলেন,এমতাবস্থায় এই বিরোধপূর্ণ জমিতে গত ৫ জুন শনিবার সকাল ১১ টায় গ্রীন সেভার নামে একটি এনজিওর ব্যানারে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গাছ লাগানোর মাধ্যমে জবর দখলের আবার অপচেষ্টা চালায় মুহিবুল্লাহ গং।

ভাগ্যক্রমে এবার আমি বাড়িতে থাকায় খবর পেয়ে মাকে নিয়ে উপস্থিত হয়ে এমন অবৈধভাবে দখল চেষ্টার প্রতিবাদ করি এবং তাদের চলে যেতে বলি।এতে তারা অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে এবং জোর করেই জমি দখল করবে বলে উদ্ধতপূর্ণ বাগাড়ম্বর করতে থাকে।এর ফলে আমি রাগের চোটে ইতোমধ্যে রোপনকৃত সব গাছ উপড়ে ফেলি।

এসময় মুহিবুল্লাহ তার মুঠোফোনে ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ প্রচার করে।এমনকি আমার মায়ের দিকে তেড়ে এসে তাঁর সম্পর্কে অশোভনীয় মন্তব্য করে।নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনকে মিথ্যে তথ্য প্রদান করে নিজের দিকে টানতে বার বার দৃষ্টি আকর্ষনের অপপ্রয়াস চালায়।কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে এখন সে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে যে আমাদের মেরে ফেলে হলেও তারা ওই জমি দখল করবেই।

জোসনা বেগম বলেন,আমার স্বামী ও দেবর যদি জমি বিক্রি করতো তাহলে কেন ২০১৬ সালে কেনা জমির দখল বুঝে নিতে ৫ বছর পর আসলো তারা?আমার স্বামী বেঁচে থাকতে কেন আসেনি?জমি বিক্রির দাবী পুরাপুরি মিথ্যে এবং যে দলিল দেখাচ্ছে তা ভুয়া জালভাবে তৈরী করা।আব্দুর রহমান বলেন,আমি বা আমার বড় ভাই মৃত ফজলুল হক ওই জমি বিক্রি করিনি।

আমরা কোন দলিলে সই করিনি বা সাব রেজিস্টার অফিসেও যাইনি।বরং ভাতিজা খলিলুর রহমানের মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ করে দেয়ার জন্য দলিল নিয়েছিল মুহিবুল্লাহ।সেই সময় সে ব্যাংক ঋনের জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তির স্ট্যাম্পে সই নিয়েছিল মাত্র।হয়তো প্রতারণা করে নেয়া সেই স্ট্যাম্পই এখন জমি বিক্রির দলিল হিসেবে উপস্থাপন করছে।নয়তো আমাদের সই জাল করে ভুয়া দলিল তৈরী করেছে।

এখন আমাদের প্রশ্ন হলো আমরা কি এভাবে নামধারী ওই সাংবাদিকের অপেশাদার আচরণ ও সন্ত্রাসীপনায় বার বার হয়রানী ও আঘাতপ্রাপ্ত হতে থাকবো?কেউ কি নেই এহেন অপকর্ম রোধ করার?তাই প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের কাছে এ ব্যাপারে সত্য প্রকাশ ও সুরাহার সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি।তা না হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *