ভোলায় ইউএনওর কক্ষে নসিমন চালককে নির্যাতন,সংবাদ প্রকাশ না করতে চাপ

আর জে শান্ত : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এক নছিমন চালককে ৪ দিন ধরে তার অফিস কক্ষে আটক করে রাখা হয়েছে।গাড়ির ক্ষতিপূরণের জন্য দাবীকৃত ১ লক্ষ টাকা দিতে না পাড়ায় নছিমন চালক আরিফকে ইউএনও কার্যালয়ে আটকে রেখে তাকে মানুষিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।গনমাধ্যম কর্মীরা জানতে পারলে এঘটনা যাতে প্রকাশ না হয় তার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে তদবির চালানো হচ্ছে বলে জানা যায়।

চরফ্যাসন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়,নছিমন চালক আরিফকে একটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে।আরিফ জানায়,গত ৩ মে তিনি মাছ নিয়ে যাওয়ার সময় ভোলা সদরের বাংলা বাজার এলাকায় ইউএনওর গাড়ি ওভার টেক করতে গিয়ে নছিমনের সাথে লেগে গিয়ে গাড়ির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তার পর নছিমন চালককে ঘটনাস্থল বাংলাবাজার এলাকা থেকে চরফ্যাসন থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং একদিন ঐখানে তাকে আটক করে রাখা হয়।

তারপর দিন সেখান থেকে ইউএনও অফিসে নিয়ে আবার তাকে বন্দি করে রাখা হয়।এর মধ্যে ইউএনও অফিস থেকে তাকে ২ বেলা খাবার দেয়া হয়।বাকী বেলার খাবার চালক নিজ পকেট থেকে টাকা দিয়ে লোক মাধ্যমে এনে খেয়েছেন।ওই গাড়ি মেরামত করতে ৩/৪ লাখ টাকা লাগবে বলে দাবি করে ইউএনও অফিস কতৃপক্ষ।সেমতে,ক্ষতি পূরনের তিন ভাগের এক ভাগ টাকা নসিমন চালকের কাছে দাবী করা হয়।কিন্তু অসহায় চালক বলেন, স্যার আমার কিছু নাই যে বিক্রি করে এনে ওই টাকা দিব।

তারপরও অনেক কস্টে ম্যানেজ করে ২০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বললেও তাতে মন গলেনি ইউএনওর।তাই ইউএনও অফিসের কক্ষে চালককে আটকে রাখেন ।এ ব্যাপার চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানান,গত ৩ মে সন্ধ্যার দিকে তার গাড়িকে টমটম ওভার টেক করার সময় ডান দিকে মোড় নেয়ার সময় গাড়িটি ৪/৫ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তখন চালককে এনে থানায় দেয়া হয়।পরদিন তাকে ইউএনওর অফিসে নেয়া হয়।

তার অফিসের স্টাফ দিয়ে তাকে খাবার দেয়া হয়।তাকে বিরিয়ানি দেয়া হয় এবং তাকে কোন মারধর যাতে করা না হয় তার জন্য নির্দেশও দেয়া হয়।তারপর ও চালকের কোন স্বজন যোগাযোগ করেনি।আজকের মধ্যে যোগাযোগ না করলে তাকে থানায় সোর্পদ করা হবে বলে তিনি জানান।তিনি আরো বলেন,ক্ষতি পূরণ বাবদ ক্ষতিপূরনের টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।তিনি বলেন,মামলা দিলে উকিল ধরতে হবে,জরিমানা হবে সেই টাকা চালক দিতে পারতো না।

আমি চেয়েছিলাম মিনিমাম যা পারে তা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।চালকের পরিবারের কেউ না আসাতে তিনি চালককে ছেড়ে দিতে পারেননি।ইউএনও বলেন,আমি বলে দিয়েছি,তাকে থানায় সোর্পদ করা হবে।আইনগত ভাবে কোর্ট যে ব্যবস্থা নিবে,তা আমরা মেনে নিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *