কুড়িগ্রামে বিলুপ্ত সাহেবগঞ্জ ছিটমহলে সেতু আছে,নেই সংযোগ সড়ক

মনিরুজ্জামান মনির : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি সেতুর দুইপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় ওই সেতুটি কোনো কাজে আসছে না।ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের পর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সাথে যুক্ত হওয়া বিলুপ্ত সাহেবগঞ্জ ছিটমহলবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরডুবির টেংরা ছড়া নালার উপর একটি সেতুটি নির্মাণ করে এলজিইডি।এই সেতুটির দক্ষিণে বিলুপ্ত সাহেবগঞ্জ ছিটমহল।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে,২০১৬ সালের শেষের দিকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ মিটার এবং প্রস্থ প্রায় ৬ মিটার।নির্মাণের প্রায় চার বছর অতিবাহিত হলেও উভয় পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি বিলুপ্ত ছিটমহলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোনো অবদান রাখতে পাচ্ছে না।

সম্প্রতি সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,দক্ষিণ দিক থেকে আসা একজন সাইকেল আরোহী তাঁর সাইকেলকে ঠেলে সেতুতে তুলছেন।তারপর সেতু পেরিয়ে উত্তর দিকে ফসলি জমির আইল হিসেবে ব্যবহৃত সরু পুকুর পাড়ের উপর দিয়ে সাইকেলকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর ও বুলবুল জানান,৪/৫ বছর হয় টেংরা ছড়া নালার উপর ব্রিজ হয়েছে কিন্তু ব্রিজের দুই পাশে রাস্তা তৈরি করা হয় নাই।ব্রিজের ওপর দিয়ে সাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনা।

রাস্তা না থাকলে ব্রিজ দিয়ে কি হবে? তাঁদের দাবি ব্রিজ তৈরি হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি সরকারের দায়িত্বশীল কেউ রাস্তা তৈরির জন্য ওই এলাকায় যাননি।ছিটমহল বিনিময় কমিটির তৎকালীন ভূরুঙ্গামারী শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে হিউম্যান রাইটস উত্তর ধরলা শাখার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন,সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি অকেজো সেতুতে পরিণত হয়েছে।

বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বাদশা অভিযোগ করেন,সরকারি উদ্যোগ এবং এলাকাবাসীর সাথে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণেই দীর্ঘদিনেও সেতুর দুই পাশে চলাচলের উপযোগী সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান জানান,ছিটমহল বিনিময় কালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

কয়েকজন ব্যক্তি সড়ক নির্মাণে জমি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সেতুর দুই পাশে সড়ক নির্মাণ হয়নি।টেংরা ছড়া সেতুর উভয় পাশে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে যাতায়াত সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *