চাঁদপুরে সরকারী সম্পত্তি দখল করে বিএনপি নেতার অবৈধ হোটেল ব্যবসা

কবির মিজি : চাঁদপুর শহরের চৌধুরী ঘাটের নামে ব্যবসায়ী।অথচ পৌর সভার অর্থায়নে নির্মিত যাত্রী ছাউনি,পাবলিক টয়লেট ও সড়ক-জনপথ বিভাগের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে মাসে আয় করছেন কয়েক লাখ টাকা!তিনি দখলবাজ ব্যবসায়ী হয়ে এযেনো এক আলাদীনের চেরাগ তাঁর হাতে পেয়েছেন, এমন অভিযোগ স্হানীয় ব্যবসায়ীদের।জানাযায়, চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরীঘাটের মাসুদ বেপারী ব্যবসায়ী,না কী দখলবাজ তা স্বয়ং স্হানীয় ব্যবসায়ীরা বলতে পারছেন না।

কারণ একের পর এক দখলের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।গুন্জন রয়েছে,চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক বাজার পরিদর্শক ( বরখাস্তকৃত) কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূত ভাবে পৌরসভার অর্থায়নে নির্মিত পাবলিক টয়লেট ও যাত্রী ছাউনিকে দখল করে দ্বিতল ভবন করেছেন।নীচ তলায় কয়েকটি দোকান করে তা ভাড়া দিয়েছেন।আর ২য় তলায় গড়েছেন আবাসিক হোটেল যাঁর নাম দিয়েছেন হোটেল রোজ গার্ডেন।আর ওই হোটেলেই প্রতিদিন চলছে অসামাজিক কার্যকালাপ।

পৌরসভা বরখাস্তকৃত উক্ত কর্মকর্তার এ ধরনের অপর্কমের বহু প্রমাণ পাওয়ায় সাবেক মেয়র কতৃক তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।অভিযোগ রয়েছে আবাসিক হোটেলটি নামে মাত্র।প্রকৃত এটি যেনো পতিতালয়।ইতিমধ্যে সদর মডেল থানা পুলিশ এ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পতিতা খদ্দর আটকের সংবাদ স্হানীয় গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়।শুধু তাই নয়,মাসুদ বেপারী পৌর ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম দিকের চলাচলের রাস্তা দখল করে সেখানে অবৈধ ভাবে দোকান নিমান করেছেন।

অপরদিকে,নতুন বাজার পুরান বাজার সেতুর নীচে সড়ক ও জনপথ এবং আইডব্লিউটির জমি দখল করে বিশাল আবাসস্থল করে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে লাখ টাকা আয় করছেন।কৌশলী মাসুদ বেপারী ফলের ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাদে অপর্কম করতে বেগ পোহাতে হয়না।প্রশাসন থেকে শুরু করে সকল স্তরে ফলের জুড়ি পাঠিয়ে সকলকে ম্যানেজ করা হলো প্রধান কৌশল।এই সখ্যতার কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও মানুষ কে হয়রানি এবং হুমকি ধমকী দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে চলছেন।

অপরদিকে স্হানীয় চৌধুরীঘাটের ব্যবসায়ীরা পাবলিক টয়লেটের জন্য বার বার পৌর মেয়রের নিকট ধর্ণা দিচ্ছেন।অথচ অবৈধ ভাবে পাবলিক টয়লেট দখল করার বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলছেন না।নাম প্রকাশ না করার শর্তে,স্হানীয় বেশকজন ব্যবসায়ী জানান,উক্ত মাসুদ বেপারী পুরান বাজারের বাসিন্দা।স্বস্তীক থাকেন নতুন বাজার।তিনি বিএনপির ঘরনার রাজনীতি করেন।

তাঁর স্ত্রী ঈশিতা বেগম জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রী এবং তিনি পর পর দুইবার চাঁদপুর পৌর সভার সংরক্ষিত আসন ১,২ও৩নং ওয়ার্ড নির্বাচনে বিএনপির সর্মথিত নারী কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান।এনিয়ে উক্ত ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে বেশ ক্ষোভ।

স্হানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভের সাথে আরো জানান,দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীন দলের বা ঘরোনার অনেক দাপুটে ব্যবসায়ী এখানে রয়েছেন অথচ তাঁরা এ ধরনের অবৈধ কাজ করতে সাহস করেননা,আর সে বিএনপির রাজনীতি করে একের পর এক সরকারি সম্পওি দখল করে দীর্ঘ বহু বছর যাবত লাখ লাখ টাকা প্রতি মাসে গুনছেন।এ যেনো দেখার কেউ নেই।

এদিকে,পাবলিক টয়লেট ও যাত্রী ছাউনি দখলের বিষয়ে চাঁদপুর পৌর সভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা সাবেক ( বরখাস্তকৃত) কর্মকর্তা কিভাবে এটা দিয়েছেন,তা আমার জানা নাই।ফাইলটি দেখে বলতে পারবো।তাছাড়া বরখাস্তকৃত ঐ কর্মকর্তার এ ধরনের অপর্কমের কারণে বরখাস্ত হয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কোটি কোটি টাকার সম্পওি দখলের বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা কার্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন,উক্ত সম্পওি দখলের বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে।তিনি বলেন,ঐ ব্যক্তি সরাসরি দখল না করে কৌশল অবলম্বন করে আমাদের ৪র্থ শ্রেণির এক কর্মচারী কে ব্যবহার করেছেন। ফলে আমরা তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে ঐ কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিষয়ে সরকারের কড়া নির্দেশনা রয়েছে।খুব শীঘ্রই বা সম্ভবত আগামী মাসের প্রথমদিকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তাই স্হানীয় ব্যবসায়ীরা অবৈধ দখলদার কে উচ্ছেদ করে পৌরসভা পরিকল্পিত পরিকল্পনার মাধ্যমে মার্কেট নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রসারে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য পৌর মেয়র অ্যাডঃ মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েলের নিকট জোর আহবান জানান।এ বিষয়ে মাসুদ বেপারীর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কয়েক বার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *