নীলফামারীতে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

শাহজাহান আলী মনন : দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধের জেড়ে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনা আড়াল করতে এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ বাড়িতেই অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের কয়া গোলাহাট পশ্চিম পাড়ায়।এসময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

ওই এলাকার মৃত. মহির উদ্দিনের ছেলে মকবুল হোসেন বলেন,প্রতিবেশী মৃত. অফর উদ্দিনের ছেলে নুরুল হকের সাথে দীর্ঘ দিন থেকে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।নুরুল হক সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গায়ের জোড়ে আমার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি তার বলে দাবি করে আসছে।এনিয়ে ২০১৩ সাল থেকেই বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় ও আদালতে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা চলে আসছে।

এসব মামলার বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আমাদের পক্ষে রায় আসে।কিন্তু তারা গায়ের জোড়ে এখনও জমি দখল করে রেখেছে।এমতাবস্থায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারী সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।এতে বিরোধপূর্ণ জমিতে রায়ের প্রেক্ষিতে চাষাবাদ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়।

সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে আমরা জমিতে পানি সেচের জন্য ড্রেন করতে যাই।এসময় প্রতিপক্ষরা সংঘবদ্ধভাবে দলেবলে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।এতে মকবুলের পরিবারের ৭ জন গুরুত্বরভাবে আহত হয়।এরা হলেন,মাসুদের স্ত্রী মনিরা (৩০),সেকেন্দারের স্ত্রী মকছেদা বেগম (৪৫), ছেলে মাসুদ (৩৫),মামুন (২৭),মজিবরের স্ত্রী উম্মে কুলসুম (৪০),মোখলেছুরের স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫), মতিয়ারের স্ত্রী মিষ্টি (৪০)।

আহতরা সকলেই সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।অপরদিকে নুরুলের স্ত্রী নুর জাহান (৪৫),মৃত গফুরের কস্ত্রী রেজিয়া বেগম (৩০) ও মৃত ফজলারের ছেলে ওবায়দুর ইসলাম (৪৫) আহত হয়েছে।তারাও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।আহতদের নিয়ে ব্যস্ত থাকার সুযোগে তারা বাড়িতেও হামলা চালায় এবং খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেয়।পরে পুলিশকে খবর দেয়ায় তারা পালিয়ে যায়।

মকবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন,জমি আমার।তা জোড় পূর্বক দখল করে বাড়ি করেছে নুরুল।এখন প্রশাসন নির্দেশ দিলেও তারা দখল ছাড়ছেনা।সকালে জমিতে ড্রেন করতে গেলে সংঘবদ্ধ আক্রমন করে আহত করেছে আমাদেরকে।অথচ এই ঘটনা আড়াল করতে তারা নিজেদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।এবং এজন্য আমাদের দায়ি করে আবারও মামলায় ফাঁসাতে চাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মৃত অফর উদ্দিনের ছেলে নুরুল বলেন,পৈত্রিক সূত্রে জমির মালিক আমরা।জমিতে জোড় পূর্বক ড্রেন করতে আসলে আমরা বাঁধা দিলে তারা আমাদেরকে মারধর করে এবং বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।সৈয়দপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খুরশিদ আলম জানান,সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।কিন্তু আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে তা তদন্ত করে জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *