কুড়িগ্রামে দৌরাত্ন্য থামছে না ভুয়া কাজির,বাল্যবিয়ের সংখ্যা বেড়েই চলছে

এলাহী শাহরিয়ার নাজিম : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে কাজি (বিবাহ রেজিস্টার) সেজে বিয়ে পড়িয়ে প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে।অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন লিপন (৫০) উপজেলার বারবান্দা গ্রামের মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে।আলিম/ফাজিল পাশ না করেই দীর্ঘদিন যাবৎ বিয়ে পড়িয়ে আসছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারী) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, গোয়াল গ্রামের আবুল হাশেমের মেয়ে তাসলিমার সাথে ঢাকা পুস্তগোলা উপজেলার সিদ্দিক মুন্সির ছেলের সাথে বিবাহ হয় গত ৫ মাস আগে।সেখানে সাখওয়াত হোসেন লিপন কাজি পরিচয় দিয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রি করেন।

বিবাহের কিছুদিন পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হলে আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে বিবাহের রেজিস্ট্রির নকলের প্রয়োজন হয়।পরে তারকাছে নকল চাইতে গেলে গত ১ মাস থেকে বিভিন্ন টালবাহনা করছে।এছাড়াও রতনপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে নুর খাতুন এর সাথে একই ইউনিয়নের চর ফুলবাড়ি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে গোলজার হোসেনের সাথে বিয়ে হয় এবং একই ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে কাজী পরিচয় দেওয়া সাখাওয়াত হোসেন লিপন বলেন,দুই একটা বিবাহ রেজিস্ট্রি করাতে ইউএনও স্যার উপস্থিত ছিলেন।আমি ভুয়া হলে তিনি আমাকে বাধা দিতেন।ভুক্তভোগী পরিবার ভোটার আইডি কার্ড দিলে তাদেরকে রেজিস্ট্রির নকল দেওয়া হবে।

এব্যাপারে রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু জানান,আমার ইউনিয়নে কাজি হিসেবে সাইফুল ইসলাম রয়েছে।অন্য কেউ কাজি পরিচয় দিয়ে অসংখ্য বাল্য বিয়ে পড়াচ্ছে আমি জানতে পেড়েছি।তাই ভুয়া কাজীকে থামানো অতি জরুরী।

এ ব্যাপারে রৌমারী ৪নং রৌমারী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজি মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান,ভুয়া কাজি সাখাওয়াত হোসেন লিপনের কারণে বাল্যবিয়ের সংখ্যা বেড়েই চলছে।সেইসাথে তার পড়ানো বিয়েগুলোর বিবাহ রেজিস্ট্রির নকল না পেয়ে ব্যাপক হয়রানি হতে হচ্ছে রৌমারী সদর ইউনিয়নবাসিকে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান জানান,সাখাওয়াত হোসেন লিপনের বানোয়াট কথা বানোয়াট।আর আশ্চর্যবোধ করে বলেন,আমি কেনো থাকবো বিয়ে পড়ানোর সময়?তিনি আরো জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলমান রয়েছে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *