বাস্তবায়ন সম্ভাবনায় নাম্বার ওয়ানে কুষ্টিয়ার প্রাগপুর স্থলবন্দর

মিজানুর রহমান : বাংলাদেশের কুষ্টিয়া সীমান্ত থেকে ভারতের দৃশ্যমান অংশে পিচঢালা সড়ক, ৩শ৩৯মিটার দুরত্বে ভারতীয় নাগরিকদের ব্যবহারের গেইট।এপথেই সেতু বানিয়ে স্থলবন্দর হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের এলাকাবাসী।অর্থনীতি আর অবকাঠামো উন্নয়নের এই অদম্য স্বপ্ন গেল ১৫ বছর ধরে লালন করে আসছেন এই এলাকার মানুষ।ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে এই উপজেলা হয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাথে যোগাযোগও বেশ সুবিধাজনক।

এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি প্রস্তাবিত এই স্থলবন্দর নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই দৌলতপুরের মানুষের মধ্যে।অবকাঠামোর দিক দিয়ে বন্দরটির সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান,বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র একটি ছোট্ট ব্রিজ পারাপারের দুরত্বে ভারতের মহাসড়ক।এই সীমান্ত দিয়ে কলকাতার দুরত্ব দেশের অন্যান্য সীমান্ত এলাকার তুলনায় অনেক বেশি নিকটবর্তী।

স্থানীয় ভাবে গড়ে ওঠা প্রাগপুর স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে একটি প্রতিনিধি দল ভারতীয় প্রেক্ষাপট পরিদর্শন ও বন্দর বাস্তবায়নে যোগাযোগও এগিয়েছেন অনেকখানি।প্রাগপুর স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি,কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন,ভারত সরকারের সদিচ্ছার কোন কমতি নেই।পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রস্তাবনাটি পাশ করে ইতোমধ্যেই কেন্দ্রে পাঠিয়েছে,বিষয়টি দুদেশের যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়।

অচিরেই আমরা প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দেখতে পাবো বলে আশাবাদী।সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল বাকী বলেন,আমাদের নেতা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুগ্রহ আমরা কামনা করছি। দুদেশের আন্ত:যোগাযোগের অনেকখানি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

আশার কথা হলো সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রী জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন,প্রস্তাবিত প্রাগপুর স্থলবন্দরটি সম্ভাব্য বন্দর তালিকার প্রথমস্থানে রয়েছে।এর আগে,জাতীয় সংসদে উল্লেখযোগ্য আলোচনা ও প্রস্তাবনার আপডেট প্রসঙ্গে জানিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকে আশার কথা বলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আ.কা.ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ।

তিনি জানান, দৌলতপুরবাসীর প্রাণের আকাঙ্খা,দীর্ঘ দিনের দাবি প্রাগপুর স্থল বন্দর সারাদেশে প্রস্তাবিত ছয়টি বন্দরের মধ্যে এক নম্বরে আছে।সরকারের উচ্চ মহলে বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে বিবেচ্য রয়েছে।অচিরেই প্রাগপুর স্থলবন্দর বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ধারায় প্রবেশের এই অনন্য ব্যবস্থা পেতে উন্মুখ স্থানীয়রা।বন্দরটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *