সিরাজগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকা ও ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ কর্মচারীর বিরুদ্ধে

মাসুদ রানা : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শিক্ষিকা ও ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর জীবনের বিরুদ্ধে।অভিযুক্ত জীবন চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর।

ঘটনা সূত্রে যানা যায় চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ হলো কম্পিউটার শিক্ষিকা ও কম্পিউটর অপারেট কর্মজীবন এক সাথে চালিয়ে আসছেন।এ সুবাদে বিভিন্ন সময় জীবন ওই শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো।স্টাফ সম্পর্কে বিভিন্ন সময় গ্রুপ ছবি উঠতেন ওই লম্পট কম্পিউটার অপারেটরের সাথে।

এ সুযোগে তাদের ছবি এডেটিং করে ফেসবুক মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়ার কথা বলে ব্লাকমেইল করে জীবন।ঘটনার এক পর্যায় ২০ লাখ টাকার দাবী করে জীবন।টাকা না দিলে তাদের ছবি নগ্নভাবে এডেটিং করে ফেসবুক মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়ার হুমকি প্রদানও করেন তিনি।ওই শিক্ষিকা কোন পথ খুজে না পেয়ে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ২০ নভেম্বর লম্পট জীবন ওই শিক্ষিকার বাড়িতে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে।এ সময় শিক্ষিকার চিৎকারে প্রতিবেশিরা আগাইয়া আসা মাত্র দ্রুত পালিয়ে যান।এ ঘটনায় ২৩ নভেম্বর ওই শিক্ষিকা বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে জীবনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় এ ঘটনার আগে ২০১৬ সালে চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।এ ব্যাপারে ওই ছাত্রীর অভিভাবক জীবনের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।সে ঘটনাটি ৩০ হাজার টাকায় আপোষ নিষ্পত্তি হয়ে যায়।এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই ঘটনার সময় যদি জীবনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যেত তাহলে আজকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতো না।

চয়ড়া গ্রামের স্থানীয় অভিভাবক রফিকুল ইসলাম জানান স্কুল শিক্ষক মোঃ জীবন একজন চরিত্রহীন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক অভিযোগ থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।তিনি আরো জানান শিক্ষক জীবন ছাত্রীদের কে নানাভাবে উত্যাক্ত করলেও কোন বিহিত হচ্ছে না।

এ বিষয়ে চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ আলম জানান কম্পিউটার অপারেটর জীবনের বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির যে অভিযোগ উঠেছে এটা আমার জানা নেই।তবে এর আগে কম্পিউটার অপারেটর জীবন স্কুলের এক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল এ কথা সত্য।এ ঘটনায় শিক্ষক জীবনকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ হাজার টাকা জড়িমানা আদায় করা হয় এবং ঘটনাটি আপোষ হয়েছে।

চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহিদুজ্জামান কাঁকন জানান শিক্ষক জীবনের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর অভিযোগ শুনেছি,তবে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বিষয়টি আমার জানা নেই।এ বিষয়ে চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার জীবন জানান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।ছাত্রীকে উত্যাক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন এই ঘটনা অনেক আগেই মিমাংসা হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *