রংপুরে ৩০হাজার টাকা মুক্তিপন না পেয়ে শিশু রাব্বিকে হত্যা করে অপহরণকারীরা

মোতাহার হোসেন : রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর গোলাম রব্বানী রাব্বি (৭) শিশু হত্যা মামলার পরিকল্পনাকারীসহ মূল দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।অপহরণের পর ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপন না পেয়ে রাব্বিকে হত্যা করার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে তারা।গ্রেফতারকৃতরা একই গ্রামের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেন ও মাদক ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম ওরফে মুসফিকুর।

তদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন,নয়টি সিম ও একটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করেছে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ।রাব্বি হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়টি মঙ্গলবার সন্ধায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রংপুর জেলার সিনিয়র এএসপি (ডি-সার্কেল) কামরুজ্জামান।

এএসপি কামরুজ্জামান জানান,গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রাব্বি বাড়ির পাশের একটি মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরের দিন মিঠাপুকুর থানায় নিখোঁজ রাব্বির মা শ্যামলী বেগম একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।পরের দিন শনিবার সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা রাব্বির বাবার মোবাইলে কল দিয়ে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

রাব্বির বাবা ছেলেকে উদ্ধারের জন্য টাকা জোগাড় করছিল,কিন্তু এরই মধ্যে এক প্রতিবেশী বাড়ির পাশের ধান ক্ষেতে রাব্বির লাশ দেখতে পান।পরে রাব্বির মা বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

তিনি আরো জানান,গোপালপুর ইউনিয়নের সুলুঙ্গা (গোকর্ন)এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাব্বি হত্যায় জড়িত একই গ্রামের কিশোর আল আমিন হোসেন ও মহিদুল ইসলাম ওরফে মুসফিকুরকে গ্রেফতার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছে।গ্রেফতার হওয়া মহিদুল ও আল আমিন সম্পর্কে প্রতিবেশী চাচা-ভাতিজা।

আল আমিন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ম্যাচে টাকা বাজি ধরে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছে।পাওনাদাররা বারবার টাকা চাওয়ার কারণে সে মহিদুলের কাছে টাকা ধার চায়।মহিদুল তার কাছে টাকা নেই জানিয়ে রফিকুলের অনেক টাকা আছে তার ছেলে রাব্বিকে অপহরণের পরামর্শ দেয় এবং রাব্বিকে অপহরণ করতে পারলে বেশকিছু টাকা আদায় করা যাবে বলে।

মহিদুলের পরামর্শ অনুযায়ী আল আমিন রাব্বিকে চকলেট দেওয়ার কথা বলে ২০নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তার বাসায় নিয়ে যায়।বাসায় নিয়ে চকলেটের সঙ্গে কৌশলে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়।ঘুমের ওষুধ মেশানো চকলেট খাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে শিশু রাব্বি অচেতন হয়ে পড়ে।এরপর মহিদুলের পরামর্শে ওইদিন সন্ধ্যায় রাব্বিকে বস্তায় ভরে বাড়ির পাশে খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখে।

রাত ১১টার দিকে রাব্বি জেগে উঠলে তাদের চিনতে পারে এবং চিৎকার করার চেষ্টা করে।তখন তারা দুজন মিলে রাব্বিকে হত্যার পরিকল্পনা করে।পরে রাব্বিকে বস্তায় ভরে পাশের ধানের ক্ষেতে নিয়ে যায় ও গলা টিপে হত্যা করে লাশ স্থানীয় একটি ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়।রাব্বিকে হত্যার পরেও আসামীরা রাব্বির বাবাকে মোবাইলে মুক্তিপণের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে।মোবাইলের সুত্র ধরেই তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *