বিচারের দাবী নিভৃতে কাঁদে

কে,এম আলী : যশোরের নওয়াপাড়ায় মরহুম গোলাম সরোয়ার হত্যার ২৬ বছরেও বিচার পায়নি তার পরিবার।নওয়াপাড়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মশরহাটি গ্রামের মৃত হাসেম আলীর ছেলে গোলাম সরোয়ার।হত্যা মামলার ২৬ বছর অতিবাহিত হলেও বিচার পায়নি তার পরিবার।১৯৯৫ সালের ১৮ নভেম্বর দিবাগত রাতে সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয় সরোয়ার।

পরদিন ১৯ নভেম্বর সরোয়ারের স্ত্রী রেনু বেগম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি হত্য মামলা দায়ের করে।যাহার মামলা নং ৭ তাং ১৯-১১-১৯৯৫ ধারা ৩০২/৩৪ দঃ বিঃ।এ মামলায় গ্রেপ্তার হয় এলকার বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।যদিও আদালত থেকে আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে (জামিনে) বেরিয়ে আসে হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস,কিছু বছর যেতে না যেতেই,মৃত্যুবরণ করেন এই মামলার বাদী রেনু বেগম (সরোয়ারের স্ত্রী)।যার কারণে এই মামলাটির অগ্রগতি স্থিমিত হয়ে পড়ে।আসামী পক্ষও এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর যুগের পর যুগ পার করে চলেছে।তৎকালীন সরোয়ারের দুই ছেলে রানা,দিনার ও এক মেয়ে লাবনি নাবালক থাকায় তারাও এই মামলার দেখভাল করতে পারেনি।কিছুটা জীবনের ভয়েও কাটাতে হয়েছে সময়।

আত্মীয়-স্বজনও উৎসাহিত করেনি কারন, খুনিরা তো সামনেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।সরোয়ার কে হারানোর পর তার নাবালক শিশু সন্তানদের হারানোর ভয় তাড়া করেছে সব সময়।সন্ত্রাসীদের হাতে নিস্বংসভাবে খুন হওয়া সরোয়ারের ২৬তম মৃত্যু বার্ষিকী অনুষ্ঠানে তার সন্তানেরা পিতা হত্যার বিচারের জোর দাবী জানান।এবং এলাকাবাসীর সহযোগীতা কামনা করেন।

মৃত সরোয়ারের সন্তানেরা এসময় বলেন-আমার বাবার খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেরাচ্ছে,আইন কি আসলেও অন্ধ?আমরা কি কখনো পিতৃ হত্যার বিচার পাবোনা।তারা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন-আপনি ছাড়া আমরা পিতৃ হত্যার বিচার পাবো না,পিতা হারানোর যন্ত্রণা যে কত কঠিন,তা আপনি জানেন।আমরা আমাদের পিতার হত্যাকারীদের ফাঁসী চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *