মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

প্রদীপ কুমার দেবনাথ : সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ-উলুধ্বনি আর ভক্তকুলের আবাহনের মন্ত্রোচ্চারণে দেবী দুর্গার স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আগমন ঘটেছে। বোধন শেষে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব।

শুধু মন্দির নয় সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের ঘরে ঘরে চলছে এখন উৎসবের আমেজ। ঢাকের বোল কাঁসার ঘণ্টা, শাঁখের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে সারা দেশের ন্যায় বেলাব উপজেলার পূজামণ্ডপগুলো।জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবীর আগমন ঘটছে দোলায় চড়ে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা বিদায়ও নেবেন গজে চড়ে। শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে তিনি বাপের বাড়ি বেড়াতে আসেন। পুরাণে মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবীদুর্গার আরাধনা শুরু করেন।

বসন্তে তিনি এই পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পুজোকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরৎকালের এই পূজাকে হিন্দু ধর্মমতে অকালবোধনও বলা হয়।শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

সারা দেশের পূজামণ্ডপে পুলিশ, র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) পঞ্চমীর সন্ধ্যায় ছিল দেবীর বোধন। বোধন শব্দের অর্থ চৈতন্যপ্রাপ্ত বা জাগরণ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের পর শুরু হবে মহাসপ্তমী পূজা।

শনিবার ( ২৪ অক্টোবর) মহাঅষ্টমী পূজা। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল বিহিত পূজার মাধ্যমে হবে মহানবমী পূজা এবং সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। তবে অতিমারীর কারণে এবার আলোকসজ্জা ও সন্ধ্যা আরতির পর থাকছেনা আর কোন অনুষ্ঠান। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে আরতির পর বন্ধ হয়ে যাবে মণ্ডপগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *