সিংগাইরের গরু ঢাকায় চাহিদা ব‍্যাপক, বিক্রির জন্য প্রস্তুত ২০ হাজার গরু-ছাগল

মোঃ সাইফুল ইসলাম তানভীরঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিংগাইর উপজেলা গবাদি পশু সমৃদ্ধ এ অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা।উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায়
তালিকাভূক্ত ছোট-বড় মিলিয়ে কৃষক ও মৌসুমী ব্যবসায়ীসহ প্রায় এক হাজার খামারে এসব গরু ছাগল পালন করা হচ্ছে। চলমান করোনা পরিস্থিতির কারনে হাট বাজারের চেয়ে খামারে কেনাবেচাকে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।

জানা গেছে,প্রতিবছর কোরবানীকে সামনে রেখে উপজেলার কৃষক ও খামারিরা গরু,ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজাকরনে ব্যস্ত থাকেন। কোরবানী ঈদে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে গবাদি পশু ঢাকার গাবতলীতে বিক্রি করেন খামারি, প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা । গেল বছর ভারত থেকে পশু কম আমদানি করায় দেশি গরুর চাহিদা ছিল ভাল। এ বছর কোরবানীকে সামনে রেখে দেশী গরু ও ছাগল মোটাতাজা করার শেষ পর্যায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে অনেকটাই শংকিত খামারিরা। তারপরেও ভারতীয় গরু কিংবা প্রাকৃতিক কোনো দুযোর্গ না হলে ভাল দাম পাবেন এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, সিংগাইর উপজেলায় স্থায়ীভাবে ৪ টি ও অস্থায়ীভাবে দু’টি হাটে গবাদি পশু বেচাকেনা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা পরিস্থিতির কারনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হাট বসানোর ঘোষনা দেয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী দূর-দুরান্ত থেকেও ক্রেতারা এ উপজেলায় এসে স্থানীয় হাট বাজার ছাড়াও খামার থেকে গরু ক্রয় করে নিয়ে যান।

উপজেলার হাটগুলোর মধ্যে বায়রা ,সিংগাইর,জয়মন্টপ ও সিরাজপুর হাট বড় । এসব হাটে বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা এসে গরু ক্রয় করে গাবতলী পশুর হাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন। এছাড়া স্থানীয় বেপারীরা  এলাকার কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু ক্রয় করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করেন। বর্তমানে এ উপজেলার শতকরা ৮০ ভাগ লোক এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছে। খামারি ছাড়াও কৃষকেরা বাড়তি আয়ের জন্য অধিকাংশ বাড়িতেই দু’একটি করে হলেও গরু ছাগল মোটাতাজা করে থাকেন। আকারভেদে কোরবানী ঈদের সময় প্রতিটি দেশী গরু ৬৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করার আশা করছেন খামারিরা।বৃহৎ আকারের দু’টি গরুর মধ্যে সদর ইউনিয়নের গোবিন্দল নৈলান গ্রামের ওয়ালিউল্লাহর গরুটি গণমাধ্যমের প্রচারনায় এসেছে। যার ওজন ২৫ মণ। দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে রাজেন্দ্রপুর ফার্মসাইড এগ্রো খামারে সাড়ে ৯’শ কেজি ওজনের ষাঁড়টিও আলোচনায় এসেছে।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, সিংগাইর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার গো-খামার রয়েছে। এবার এসব খামারে মোটাতাজা করা হয়েছে চার হাজারের অধিক গরু । হাজার খানেক ছাগল ভেড়াসহ প্রান্তিক কৃষক ও মৌসুমী বেপারী পর্যায়ে ২০ হাজারের অধিক গরু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ উপজেলায় দেশী জাতের গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে ৯০ ভাগ। এ ছাড়া রেড চিটাগাং
ক্যাটেল শাহিয়াল, ফ্রিজিয়ান ও জার্সি মিলিয়ে রয়েছে ১০ ভাগ।

উপজেলার রাজেন্দ্রপুর গ্রামের ফার্মসাইড এগ্রোর ম্যানেজার সোহেল রানা বলেন, আমাদের ফার্মে ৭০টি ষাঁড় গরু রয়েছে শংকর জাতের। এগুলোকে গম,খেসারি,মসুরী ভুসি, খৈল, ধানের কুড়া শুকনো খর ও কাচা ঘাস খাওয়ানো হয়। এতে গরুগুলো স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত হয়। এখানে কোনো রকম স্টেরোয়েড ব্যবহার হয়না। আমাদের খামারে ২৩০ থেকে সাড়ে ৯০০ কেজি ওজনের গরু রয়েছে। গরুগুলো খামার
থেকেই বিক্রি করছি। এ ছাড়া অনলাইনে ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। বায়রা ইউনিয়নের সানাইল গ্রামের খামার বাংলা  এগ্রোর পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান মনির বলেন, কোরবানীকে ঘিরে আমাদের খামারে ২০ টি গরু মোটাতাজা করে প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে পার্টি এসে  গরু পছন্দ করে কোরবানীর জন্য কিনতে পারবেন। এছাড়া ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব এর মাধ্যমে  বিক্রির ব্যবস্থা আছে। ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে গরুগুলো বিক্রি করা হবে।

 এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক আহাম্মদ বলেন, আমার জানামতে, এ এলাকায় গবাদিপশু মোটাতাজাকরনে ক্ষতিকর স্টেরোয়েড ব্যবহার হয় না। নিরাপদ গো-মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা কৃষক ও খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উদ্ধুদ্ধকরণ ও পরামর্শসহ মাঠ মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। চলমান করোনা পরিস্থিতির কারনে এবার  বাজারগুলোতে সামাজিক দুরত্বের বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের লোকজন প্রতিটি বাজারে পরামর্শ ও চিকিৎসার জন্য উপস্থিত থাকবেন। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার কমিটিকে সাহায্য করবেন।