বাংলাদেশের নামকরণ বাংলাদেশ হল যেভাবে!

ইতিহাসের বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন ভূমি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা এনেছি লাল সবুজের পতাকা। একটি পরিচয়।আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অভ্যুদয় হয়েছিল আমাদের স্বাধীন দেশের।একটি নাম বাংলাদেশ। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন এই প্রিয় ভূমির নাম বাংলাদেশ কেন হল? অথবা বাংলাদেশের নাম কিভাবে বাংলাদেশ হল? শুরু করতে হবে কয়েক সহস্র বছর পিছিয়ে গিয়ে। অন্তত ৫ হাজার বছর পূর্বে। বঙ্গ নামটি বৈদিক ও সংস্কৃত লেখনীতে পাওয়া যায়।

গ্রীক ও রোমান ভাষার লেখনীতে এই অঞ্চলের নাম এসেছে গঙ্গারিডই নামে। আর্যরা যখন এদেশে এল তারা এই অঞ্চলকে বঙ্গ বলে অভিহিত করেছিল। বঙ্গ একটি সংস্কৃত শব্দ।আর বঙ্গ থেকেই বাংলা শব্দটি এসেছে। পৌরণিক মতে রাজা বালির তিন পুত্র এই অঞ্চলকে শাসন করতেন, ১) অঙ্গ ( খুলনা,বরিশাল ২) বঙ্গ (ঢাকা,ময়মনসিংহ) ৩) পুন্ড্র (উত্তর বঙ্গ, আসাম) এই বঙ্গে বসবাসকারী মুসলিমেরা বঙ্গ শব্দের সাথে ফার্সি আল প্রত্যয় যোগ করে দেয়, এভাবে আসে বাংগাল বা বাঙ্গালাহ শব্দটি। আল বলতে জমির বিভাজন বা নদীর উপর বাঁধ দেয়া বোঝায়। পরবর্তী কালে ১৩৩৬ থেকে ১৫৭৬ এর সুলতানী আমল এবং তৎপরবর্তী মোগল শনামলে এই অঞ্চল বাঙ্গাল বা বাঙ্গালাহ নামে পরিচিতি পায়।

একটি বিষয় জানা জরুরী বাংলা,বাঙ্গাল,বা দেশ এই তিনটি শব্দই এসেছে ফার্সি শব্দ হতে, কোনটাই বাংলা শব্দ নয়। এরপর বিভিন্ন রাজা এই দেশে তাদের শাসনামলে এই ভূখন্ডকে ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করে। নবাব সিরাজদৌল্লার সময় বাংলা বিহার উড়িষ্যা আসামকে নিয়ে গঠিত প্রেসিডেনসির নাম দেন বঙ্গ। বৃটিশ শাসনামলে এই অঞ্চলের নাম হয় বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি। বৃটিশরা যখন ভারত ছাড়ল তখন বঙ্গ প্রদেশ ভাগ হল ভারত পাকিস্তানে। ১৯৪৭ এর পর পাকিস্তানিরা এই অঞ্চলের নাম দিতে চাইল পূর্ব পাকিস্তান।ভাষার অধিকারে প্রাণ দিল বাঙ্গালী।১৯৫৭ সালে সেদিনের তরুণ সাংসদ শেখ মুজিব স্পষ্ট আপত্তি তুললেন পূর্ব পাকিস্তান নামকরণের ব্যাপারে। তিনি বললেন বাংলার নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য আছে। এই অঞ্চলের নামকরণের আগে এদেশের জনগনকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে মিছিলের স্লোগান হয়বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন করইতিহাসে এই প্রথম বারের মত বাংলাদেশ শব্দটি ব্যবহার হয়।নতুন ভূমির নামও যেনো বুকে লালন করতে শুরু করেছিল মুক্তিকামী জনতা।পরের ইতিহাস আমরা সবাই জানি। ১৯৬৯ সালেই হোসেন সোহরাওয়ার্দির মৃত্যুবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু সহ অন্যান্য আওয়ামীলীগ নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন।সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ নামটি প্রস্তাব করলে সবাই এই নামের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেন।এর পরের ইতিহাস আমরা সবাই জানি,  রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি।

মুক্ত বাতাসে বঙ্গীয় লোকেরা শ্বাস নেয় আনন্দে, একটি নাম হৃদয়ে খোদাই করার সেই আনন্দ ইতিহাস বিরল বাংলাদেশ!! প্রিয় বাংলাদেশ।হাজার বছরের বাংলা ভাষা এবং বাঙ্গালীর ঐতিহ্যের  স্বরুপ বাংলাদেশ।

সংকলন: এডভোকেট মোজাদ্দেদ হাসান আদনান, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট……