জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে মাঠের কর্মীদের কিছু কথা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র উদ্দেশ্যে মাঠের মানুষের কিছু কথা তুলে ধরছি………….

মাননীয় মন্ত্রী, এমপি,কেন্দ্রীয় এবং জেলার কিছু নেতা এতো ক্ষমতা দেখায়, প্রভাব দেখায় তৃণমূলের, দলের নেতা কর্মীরা এবং মানুষেরা সহ্য করতে পারছে না। ব্যাঙ্গ করে অনেকে বলে আল্লাহ,আল্লাহ রাসূলের পরে উনাদের নাকি ক্ষমতা বেশি। উনারা অন্যদলের অপরাধীদের সাথেও ক্ষেত্র বিশেষে আপোষ করে চলেন এবং প্রস্রয় দেন। নিজের দলের তৃণমূলের ত্যাগি নেতা কর্মী যারা তাদের সাথে সময় দেয় না, আলোচনা করে না ও কথা বলে না। তবে গুটি কয়েকজন ছাড়া বাকি তারা দেশের উন্নয়নে কাজ করে। মাননীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু মৃত্যু পরে দুর্দিনে ১৯৭৫-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যারা জীবন বাজি রেখে দলের কাজ করেছেন তারা অনেকে মৃত্যুর পথযাত্রী এবং অনেকে মধ্য বয়সী। পরবর্তীতে ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি এবং ফখরুদ্দীন মঈনুদ্দিনের সময় জেল খেটে রাজপথে আন্দোলন করেছে তৃণমূলের নেতা এবং কর্মী তাদের খোঁজ খবর প্রায় এমপি, মন্ত্রীরা রাখে না। নেত্রী তাদের কী হবে?

মাননীয় নেত্রী, আপনাকে আরো বলতে চাই, শুনলে অবাক হয়ে যাবেন তারা যেন কেমন হয়ে গেছে। তারা পছন্দ করে ডিসি, এসপি আনে এবং ইউএনও, ওসি আনে। এই সরকারি কর্মকর্তারা যে এমপি সাহেবদের মাধ্যমে জেলায় এবং উপজেলায় আসে, তারা শুধু তাদের এবং তাদের পরিবারের কথা শুনে। বাকি দলের নেতা কর্মীরা যারা সরকার গঠনের জন্য রাজপথে আন্দোলন, সংগ্রাম এবং জীবন দিয়েছে তাদের খবর গুটি কয়েক এমপি ছাড়া কেউ নেয় না এবং তাদের টেলিফোনও ধরে না। এখন আপনার দলের তৃণমূল নেতা কর্মীরা অসহায়। এখনতো মূলত দলে জাতীয় দিবস গুলো পালন করা ছাড়া অন্য কোন কাজ নেই। এর মধ্যে সুবিধা পাচ্ছে অন্য দল থেকে আসা লোক এবং সুবিধা বাদি চরিত্রের কিছু লোকজন। তারা অনেকে সেল্ফিবাজ এমপিদের তাঁবেদারি করে। এ লোক গুলোর সরম এবং লজ্জা নেই। আর এর মধ্যে যেসব নির্বাচনি এলাকায় মতের অমিল আছে সেসব এলাকার তো কথাই নাই, কি খারাপ অবস্থা। আমরা শুধু ভোটের জন্য রাজনীতি করি না,রাজনীতি হল দেশ ও জনগনের জন্য।মনে রাখতে হবে আমরা ক্ষমতায় থাকলেও হিরো ,না থাকলেও হিরো। আবার অনেকে আছে ক্ষমতায় থাকলে হিরো, না থাকলে জিরো। যারা চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, অন্যায় এবং জুলম করে, শপথ নিয়ে শপথ ভঙ্গ করে , তারা কোন দিন জনগনের নেতা হতে পারে না। এ জাতীয় লোক যে কোন দলের নেতাই হোক না কেনো,কেনো দিন,ভোট পাবে না, এবং জনগনের সমর্থন পাবে না, দেশেও থাকতে পারবে না। এ জাতীয় লোকদেরকে অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে আসতে দেওয়া যাবে না।কেন্দ্রীয় নেতা,জেলার কিছু নেতা এমপি মন্ত্রীরা তৃণমূল নেতা না।তৃণমূল নেতা বলতে ওয়ার্ড ইউনিয়ন,উপজেলার নেতা কর্মীদেরকে বুঝায়। তারা তো অসহায়, মূল্যায়ন পাচ্ছে না।

দল যখন বিরোধী দলে থাকে তাদের মূল্য ও প্রয়োজন অনেক বেশি থাকে দলের এবং নেতাদের কাছে । আর ক্ষমতায় থাকলে মন্ত্রী, এমপি কেন্দ্রীয় এবং জেলার কিছু নেতার প্রভাব প্রতিপত্তি থাকে বেশি। আর অন্যরা থাকে অসহায়। প্রশাসন এখন এমপি কেন্দ্রীক, দল বা দলের নেতা কেন্দ্রীক না।

মাননীয় নেত্রী মনে কিছু করবেন না ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে আপনি যখন হেরে গেলেন, আপনাকে এবং আপনার দলের নেতা কর্মীকে ফেলে রেখে প্রভাব শালী অনেক এমপিরা চলে যায়। এটিতো নিয়ম। যেমন আমাদের শ্রদ্ধেয় বড় ভাই জয়নাল হাজারি সাহেব চলে গেলেন রাতের অন্ধকারে ভারতে। আর একজন নারায়নগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি জনাব শামীম ওসমান সাহেব চলে গেলেন জার্মানিতে। আমি তাদের বিরুদ্ধেবলছি না। ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি এবং ফখরুদ্দীন মঈনুদ্দিনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পূর্ব মূহুর্তে দেশে ফিরলেন এসকল নেতারা। তারাই আবার আওয়ামী লীগের এমপিও হলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাও হলেন। এসব জাতীয় নেতারা সারা দেশে রাজনৈতিতে কোন কারণে অমিল থাকলে মামলা,হামলায় দলের কর্মী মেরেও ফেলে। পরে তার বিচার পায় না। মাননীয় নেত্রী আপনার কাছে শেষ বারের মতো অনুরোধ সাহেদ, পাপিয়া,বিএনপির গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, শাহাবুদ্দীন লালটু, ইমদু,আজম খানের মতো লোকেরা এবং বিএনপি এবং জামাতের লোক উপঢৌকোন , তাবেদারি ও চামচাগীরি করে কোন স্তরের কমিটিতে ডুকতে না পারে। তাহলে আপনার দল টিকে থাকবে, নেতা কর্মী টিকে থাকবে।ধন্যবাদ,প্রিয় নেত্রী।

লেখক: সাজ্জাদ হোসেন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা (দঃ) জেলা আওয়ামী লীগ…